নীড়পাতা » প্রথম পাতা » নিউজিল্যান্ডে কাল ‘টেস্ট পরীক্ষা’

নিউজিল্যান্ডে কাল ‘টেস্ট পরীক্ষা’

হুমায়ুন কবির কিরণ

কোনো টেস্ট শুরুর আগে কৌতুহলের অন্যতম জায়গা উইকেট। দু’দলের অধিনায়ক কোচ আর টিম ম্যানেজম্যান্টের গলদঘর্ম অবস্থা উইকেটের চরিত্র বিশ্লেষনে। কেমন হবে উইকেট?

এটাতো জানা কথা, সব দেশই তাদের সুবিধা মতো উইকেট বানায়। সফরে আসা অতিথিদের স্বাগত জানায় নিজেদের শক্তিমত্তার জায়গা থেকে। নিউজিল্যান্ডের ওয়েলিংটনের বেসিন রিজার্ভও স্বাগতিক ফাস্ট বোলারদের কথা ভেবে টেস্টের জন্য তৈরি করেছে নিজেকে। সবুজ উইকেট! গ্রিন-টপ! যে উইকেটে খেলার অভ্যাস একদমই নেই টাইগারদের। তবু সতর্ক কিউইরা। ওয়ানডে এবং টি২০ সিরিজে অতিথিদের ধবলধোলাই করার পরও কিউ্ইরা জানে, এই বাংলাদেশ দল বিপদজনক। তাছাড় এও তাদের জানা, ইংল্যান্ডকে টেস্টে হারিয়েই তারা মাঠে নামতে যাচ্ছে। তবে অল গ্রীন (মাঠ যেমন, উইকেটও) মাঠে কাল ভোর থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে কেমন করে বাংলাদেশ সেটাই এখন দেখার। চ্যানেল নাইন ভোর ৪টা থেকে শুরু হওয়া প্রথম দিনের খেলা সরাসরি সম্প্রচার করবে। ধারাবিবরনী সম্প্রচারের কথা বাংলাদেশ বেতারেরও।
ফাস্ট বোলার তাসকিন আহমেদের টেস্ট অভিষেক হচ্ছে কালই। ২১ বছরের বোলারের প্রধান অস্ত্রই গতি। আর ওয়েলিংটনের উইকেট দেখে তার তো রীতিমত জিভে জল আসার অবস্থা। রুবেল হোসেনও আছেন বাংলাদেশ দলে। ফিরেছেন টেস্ট দলে। টেস্টে রেকর্ড ভালো না হলেও এই সফওে সময়টা দুর্দান্ত যাচ্ছে তার। তাই ওয়েলিংটনের উইকেট একটু হলেও ভাবাচ্ছে খোদ স্বাগতিকদেরও।
উইকেটে গতকাল সকালে একবার ঘাস কাটা হয়েছে। আগামীকাল (আজ) আরও একবার কাটিং মেশিন যাবে এর ওপর দিয়ে। তাতে গাঢ় সবুজ ভাব আরো কিছুটা কমে আসবে। তাই বলে নিশ্চিত থাকতে পারছে না বাংলাদেশ। কেননা এমন উইকেটে খেলার অভিজ্ঞতা মুশফিক-তামিমদের খুব একটা নেই। প্রথম চ্যালেঞ্জ ব্যাটসম্যানদের। তামিম, ইমরুল, মুমিনুল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ ও সাব্বিরদের ঘাসের উইকেটে কিউই ফাস্ট বোলিং তোপ সামলাতে হবে। বোঝাই যাচ্ছে বল নাক ও মুখের আশপাশ দিয়ে যাবে। সুইংও করবে। আর সবুজ ঘাসের সাথে ওয়েলিংটনের চিরায়িত বাড়তি বাতাসও চোখ রাঙাচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য টেস্ট অভিষেক নিয়ে তাসকিন বলেন, টেস্ট খেলা আমার বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। আর সে স্বপ্ন পূরণের দোরগোড়ায়। ভাবতে খুব ভালো লাগছে। পুলকিত ও রোমাঞ্চ অনুভব করছি। আর এমন ঘাসের উইকেটে অভিষেক হবে, এটা ভেবে আরও ভাল লাগছে।
ওয়ানডেতে হোয়াইটওয়াশ। টি-টোয়েন্টিতে তাই, ৩-০। টানা ৬টি ম্যাচ হেরে কিউইদের মাটিতে রীতিমতো ধুঁকছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ভালো করার আশাটা ধূসরই। কারণ সেই লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সীমিত ওভারের ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশের সামর্থ চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক শিবরি। তিন ফরম্যাটেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে জয়হীন বাংলাদেশ। টেস্ট ক্রিকেটে দৈন্যদশা আরও প্রকট। শুধুমাত্র ওয়ানডেতেই জয়ের রেকর্ড আছে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। সেটা বাংলাদেশের মাটিতে। টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিতে ঘরে কিংবা বাইরে কোথাও নেই জয় নামক শব্দটি। টেস্টে ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১১বার মোকাবেলা করেছে বাংলাদেশ। যেখানে ৮টিতেই হার। বাকি তিন ম্যাচে ড্র, এর মধ্যে দুটিতেই প্রকৃতির কল্যাণে। সেই তিন ড্র আবার বাংলাদেশের মাটিতে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে পাঁচটি টেস্ট।
যার প্রতিটিতেই করতে হয়েছে অসহায় আত্মসমর্পণ। এর মধ্যে তিনটিতে ইনিংসে ব্যবধানে হার। বাকি দুটিতে হারের ব্যবধান নয় উইকেট ও ১২১ রানে। চিত্র পরিস্কার, কী হতে চলেছে সামনের দুটি টেস্টে। অবশ্য, বাংলাদেশ এই দলটির সামর্থ্য আছে কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলার। শুধুমাত্র তামিম-ইমরুল-সাকিবদের নামের প্রতি সুবিচার করতে হবে। তাছাড়া প্রথম টেস্টের একাদশে ফিরছেন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম। তার ফেরা দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়াবে। একাদশে থাকতে পারেন ‘টেস্ট ব্যাটসম্যান’ মোমিনুল হকও। মিস্টার ফিফটি বলে তার কিন্তু খ্যাতি রয়েছে। এই উইকেটে একটি ফিফটিও কিন্তু মহামুল্যবান হয়ে উঠতে পারে। এর সাথে মেহেদি মিরাজ যদি একাদশে থাকেন তাহলে বোলিং গভীরতার পাশাপাশি ব্যাটিংটাও শক্তিশালি হবে। তবে এ কথা মানতেই হবে, বিরুদ্ধ কন্ডিশনে-বাউন্সি উইকেটে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রমান করার মিশনটা টাইগারদের জন্য কঠিনই।
আরেকটি বিষয় ভোগাতে পারে অতিথিদের, অভিজ্ঞতার ঘাটতি। নিউজিল্যান্ডে কেবল একটি টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা আছে রুবেলের। দুই মুল পেসারের (রুবেল-তাসকিন) অনভিজ্ঞতা দু.শ্চিন্তার কারণ। নিউজিল্যান্ড দলে থাকা চার পেসারের মধ্যে সবচেয়ে কম সাতটি টেস্ট খেলেছেন ম্যাট হেনরি। বাকি সবার ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের চার জনের মিলিত সংখ্যার চেয়ে বেশি। নিল ওয়াগনার ২৭টি, ট্রেন্ট বোল্ট ৪৭টি আর টিম সাউদি ৫৪টি টেস্ট খেলেছেন।