নীড়পাতা » প্রথম পাতা » শিগগির বড় জঙ্গি হামলা আশঙ্কা

আভাস দিলেন সেতুমন্ত্রী ও ডিএমপি কমিশনার

শিগগির বড় জঙ্গি হামলা আশঙ্কা

কুদ্দুস আফ্রাদ ঢাকা অফিস

শিগগির বড় ধরনের জঙ্গি হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শাসক দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। প্রায় অভিন্ন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন ঢাকার পুলিশ প্রধান আছাদুজ্জামান মিয়া। তবে, কিভাবে তারা এ আশঙ্কা করছেন তা পুরোপুরি খোলাসা করেননি। তার মাঝেই গতকাল ঢাকার উত্তরা ও কলাবাগান থেকে ১০ জঙ্গিকে আটক করার দাবি করেছে র‌্যাব। ধৃত জঙ্গিরা সবাই নব্য জেএমবির তামিম গ্রুপের অনুসারী বলে জানানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে জঙ্গিরা দুর্বল হয়ে গেলেও তারা তলে তলে বড় হামলার প্রস্তুতি নিয়ে তৈরি আছে। ওবায়দুল কাদেরের দাবি- ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গিরা দুর্বল হয়ে গেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ পর্যায়ের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও শিগগির বড় হামলা হতে পারে। গতকাল সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের পাশে ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মনিরুজ্জামান বাদলের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানানো শেষে ওবায়দুল কাদের এ সব কথা বলেন। অন্যদিকে গতকাল ভিন্ন এক অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, জঙ্গিদের সক্ষমতা কমে গেলেও এখনো তাদের হামলার আশঙ্কা রয়েছে।
গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশিসহ ২২ জনকে হত্যা করে। এই ঘটনাটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের তৈরি করে। এর ছয় দিন পর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদুল ফিতরের জামাতে হামলার চেষ্টা করে জঙ্গিরা। দুই পুলিশ সদস্য জীবন নিয়ে এই হামলা ঠেকালেও দেশে জঙ্গি তৎপরতার উত্থান যে আতঙ্কজনক পর্যায়ে পৌছে গেছে-একেই এর প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে এই দুটি হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সাম্প্রতিক জঙ্গি তৎপরতার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিতসহ সন্দেহভাজর মোট ৩১ জন জঙ্গি নিহত হন। সবশেষ গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার অন্যতম মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত নুরুল ইসলাম মারজান এবং রংপুরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যায় জড়িত হিসেবে অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেন নিহত হন। একইসঙ্গে পুলিশ এবং র‌্যাবের শীর্ষ পর্যায় থেকেও একাধিকবার বলা হয়েছে জঙ্গিদের শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার পথে।
তবে ওবায়দুল কাদের এমনটি ভাবছেন না। তিনি বলেন, ‘হলি আর্টিজান এবং শোলাকিয়ার মতো ঘটনা থেকে বাংলাদেশ এখনও ঠিকমত বের হতে পারেনি। কারণ বিএনপি অপশক্তিকে প্রশ্রয় দিয়ে অপকর্মের মাধ্যমে দেশকে অশান্ত করার চেষ্টা করছে।’
শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত চলছে
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত চলছে বলেও সতর্ক করে দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে ভোটের রাজনীতিতে পরাজিত করতে না পেরে যেভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছিল। একইভাবে এখন শেখ হাসিনার ঈর্ষান্বিত জনপ্রিয়তার কারণে তাকেও ভোটে হারানো যাবে না জেনে তাকেও হত্যার চক্রান্ত চলছে। তাই আমাদেরকে এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’ সম্প্রতি দলকে ভারী করতে পরগাছাদেরও ছাত্রলীগ সংগঠনে ভেড়াচ্ছে জানিয়ে এই কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, ‘অপশক্তি ও অপকর্মকারীদেরকে দলে প্রশ্রয় দেবে না, তাদের প্রশ্রয় দিলে অপকর্ম বেড়ে যাবে।’ ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অপকর্মকারীদের ছাত্রলীগে জায়গা হবে না। তাদের দায় ছাত্রলীগ যেন না নেয়। এদের প্রশ্রয় দেবে না। ছাত্রলীগকে সুনামের ধারায় ফিরে আনতে হবে।’ ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক মনিরুজ্জামান বাদলের স্মৃতিচারণ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, তিনি সব সময় এই নেতার শূন্যতা অনুভব করেন। তিনি বলেন, ‘বাদলের ন্যায় ছাত্রলীগের প্রতিটি নেতাকর্মীকে গড়ে উঠতে হবে। দলের প্রতি দায়িত্বশীল হয়ে কাজ করতে হবে।’ বলা বাহূল্য, ১৯৯১ সালের ৯ জানুয়ারি বিকালে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর একটি কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির শহীদ মিলন চত্বরে মনিরুজ্জামান বাদলকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এখনো জঙ্গি হামলার আশঙ্কা আছে : ডিএমপি কমিশনার
জঙ্গিদের সক্ষমতা কমে গেলেও এখনো তাদের হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রধান কার্যালয়ে গুলশান হামলায় নিহত দুই পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সময় এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন ডিএমপি কমিশনার। আছাদুজ্জামান মিয়া আরো বলেন, এসব হামলা প্রতিহত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। নিজের বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার বলেন, অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করেই হলি আর্টিজান মামলার অভিযোগপত্র দেওয়া হবে, যেন জঙ্গি ও তাদের মদদদাতারা আইনের ফাঁক গলে পার না পেয়ে যায়। অনুষ্ঠানে নিহত জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার রবিউল করিমের স্ত্রী ও মা এবং পুলিশ পরিদর্শক সালাহউদ্দিন খানের স্ত্রীর হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। এ সময় সাইফ পাওয়ারটেকের পক্ষ থেকে প্রতি পরিবারকে ১০ লাখ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়।